😰😰😰অশ্লীল গালাগালি করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ😰😰😰

Spread the love

😰😰😰অশ্লীল গালাগালি করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ😰😰😰

    সাহল ইবনু সা‘দ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দু’চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দু’রানের মাঝখানের বস্তু (লজ্জাস্থান) এর জামানত আমাকে দিবে, আমি তার জান্নাতের যিম্মাদার। সহীহ বুখারী (৬৪৭৪)

    দুনিয়াতে যত ফিতনা ফাসাদ ও অপকর্ম সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয়ে থাকে জিহবা ও লজ্জা স্থানের দ্বারা। এ দুটোকে যে সংযত করবে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

    ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হচ্ছে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীলভাবে গালাগালি দেয়। (সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৪)
    উল্লেখ্য, এই হাদিসটি প্রায় সবকটি হাদিস গ্রন্থেই আছে। আর এটি সহিহ হাদিস।

    “আল্লাহ তা‘আলা অশ্লীল এবং কটুভাষীকে অবশ্যই ঘৃণা করেন।” (সুনান তিরমিজী, হাঃ নং ২০০৮)

    ইসলামে গালিগালাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর অশ্লীল গালিগালাজ মুনাফিকির একটি বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতা’আলা অশ্লীল গালাগালিকারীদের ঘৃণা করেন। এরপরেও আপনি কি করে অশ্লীল গালাগালি করেন?
    ইসলামে যা নিষিদ্ধ, তা নিষিদ্ধই। কোনরকম অজুহাত বা যুক্তি অশ্লীল গালাগালিকে জায়েজ করে দিতে পারে না। অথচ দুঃখজনক যে, গালিগালাজের পর অনেকেই গালিগালাজের সপক্ষে যুক্তি পেশ করে থাকে। একবার চিন্তা করুন, শেষ বিচারের দিনে আল্লাহ্‌র সামনে গালিগালাজের সপক্ষে এভাবে অজুহাত বা যুক্তি পেশ করতে পারবেন? না, কখনোই পারবেন না। তাহলে এই গালিগালাজ বন্ধ করুন, আল্লাহকে ভয় করুন।
    কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অশ্লীল গালাগালি করে, তাহলে আপনার উচিত হবে সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করা। যদি সেই ব্যক্তি এরপরেও সতর্ক না হয়, তাহলে আপনার উচিত হবে তাকে বয়কট করা বা এড়িয়ে চলা। কিন্তু সেই ব্যক্তি যদি সাধারণ কেউ না হয়ে জনপ্রিয় কোন ব্যক্তিত্ব হয়, তাহলে আপনার উচিত হবে প্রকাশ্যেই তার বিরোধিতা করা। কিন্তু এরপরেও যদি আপনি তাকে সমর্থন করে যান, তাহলে এর পাপের ভার আপনাকেও বহন করতে হবে, সন্দেহ নেই। বিশেষ করে, মুসলিম নেতা হিসেবে পরিচিত কিংবা ইসলামী আন্দোলনের কোন কর্মী কাউকে গালিগালাজ করলে ও নিজেকে সংশোধন না করলে প্রকাশ্যেই তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা উচিত। কেননা এরকম ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। এমনকি আপনার জন্যেও ক্ষতিকারক। কেননা সে আপনাকে “ভূল” শিক্ষা দিচ্ছে। তাই অজুহাত বন্ধ করে,  গালিগালাজকারীদের পদমর্যাদা, বংশপরিচয়, প্রতিভা, প্রভাবপ্রতিপত্তি ইত্যাদি না দেখে  সম্পূর্ণরূপে বয়কট করুন। এখনই এর প্রতিকার না করলে পৃথিবীতে ভয়াবহ পরিস্থিতির স্বীকার হতে হবে এবং আখিরাতে জবাবদিহি করতে হবে।

    শুধু সাধারণ কোন ব্যক্তি কেন, বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা কোন মুসলিম ব্যক্তিত্বও যদি কাউকে অশ্লীল গালাগালি করেন ও তার সপক্ষে যুক্তি পেশ করে থাকেন, তাহলে আপনার উচিত হবে প্রকাশ্যে তারও বিরোধিতা করা।

    গালিগালাজের বিরোধিতা করে আরো অনেক হাদিস আছে। নীচে কয়েকটি উল্লেখ করলাম। যাতে আপনারা এথেকে শিক্ষা নিতে পারেন।

    “আইশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হওয়ার অনুমতি চাইলে, তিনি বলেনঃ সে খারাপ বংশের লোক । এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তাকে আসতে দাও । সে ব্যক্তি ভিতরে প্রবেশ করলে তিনি তার সাথে নরম-ভদ্র ব্যবহার করেন । তখন আইশা (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ! আপনি তার সাথে ভদ্র ব্যবহার করলেন, অথচ ইতোপূর্বে আপনি তার সম্পর্কে এরূপ উক্তি করলেন ? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে অধিক ঘৃণিত হবে, যার দুর্ব্যবহারের কারণে লোকজন তার সাথে মেলামেশা পরিত্যাগ করে।” (সুনান আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৭১৬)

    “জারীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি নরম স্বভাব হতে বঞ্চিত, সে সব ধরনের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত।” (সুনান আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৭৩৪)

     ” আনাস ইবনু মালিক হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গালি-গালাজকারী, অশালীন ও লা‘নতকারী ছিলেন না। তিনি আমাদের কারো উপর অসন্তুষ্ট হলে, শুধু এতটুকু বলতেন, তার কী হলো। তার কপাল ধূলিমলিন হোক।” (সহিহ বুখারী, হাঃ নং ৬০৩১)

    “আহমাদ ইবন হাসান ইবন খিরাশ বাগদাদী (রহঃ) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে যার চরিত্র ও ব্যবহার ভাল সে ব্যক্তি আমার নিকট তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় এবং কিয়ামত দিবসে সে আমার সবচেয়ে নিকট অবস্থান করবে। আর আমার নিকট তোমাদের মধ্যে সবচে’ ঘৃণ্য ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে যারা আমার থেকে দূরে থাকবে সেই ব্যক্তিরা হল যারা, ছারঝারূন অনর্থক বক বক করে এবং মুতাশাদ্দিকুন যারা উপহাস করে এবং’মুতাফায়হিকুন তো আমরা জানি কিন্তু’মুতাফায়হিকুন কি? তিনি বললেন, যারা অহংকার করে।

    এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।

    উক্ত হাদীসটি এই সনদে গারীব।

    الثَّرْثَارُ –  যে ব্যক্তি বেশী কথা বলে।

    الْمُتَشَدِّقُ –  যে ব্যক্তি কথা বার্তায় লোক সমাজে অহংকার প্রদর্শন করে এবং অন্যদের উপর অশ্লীল এবং উপহাসমূলক কথা প্রয়োগ করে

    (তিরমিজী, হাঃ নং ২০২৪)

    “সাঈদ ইবন মুসায়্যাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসেছিলেন এবং তাঁর সাহাবীগণ তাঁর সংগে ছিল। এ সময় এক ব্যক্তি আবূ বকর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে (কটুক্তি করে) তাঁকে কষ্ট দেয়। আবূ বকর (রাঃ) তা শুনে চুপ করে থাকেন। সে ব্যক্তি তাকে দ্বিতীয়বার কষ্ট দিলেও তিনি চুপ করে থাকেন। এরপর সে তৃতীয়বার তাঁকে কষ্ট দিলে তিনি প্রতিশোধ নেন – (অর্থাৎ তিনি তার কটুক্তির জবাব দেন।) আবূ বকর (রাঃ) যখন কটুক্তির জবাব দিয়ে প্রতিশোধ নেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে যান। তখন আবূ বকর (রাঃ) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি আমার উপর রাগ করলেন ? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আসমান থেকে একজন ফেরেশতা এসে ঐ ব্যক্তিকে তোমার পক্ষ হতে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছিল। কিন্তু তুমি নিজেই যখন জবাব দিলে, তখন শয়তান সেখানে এসে হাযির হয়ে গেল । আর শয়তান যেখানে আসে, আমি সেখানে বসতে পারি না।” (সুনান আবু দাউদ, হাঃ নং ৪৮১৬)

    ফেসবুকে পিতা-মাতাকে উল্লেখ করে ব্যাপক গালিগালাজ দেখা যায়। এসম্পর্কে নীচের হাদিসটি পড়ুন।

    “আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী ﷺ বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো নিজের পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহর রসূল! আপন পিতা-মাতাকে কোন লোক কিভাবে অভিসম্পাত করতে পারে? তিনি বললেনঃ সে অন্য কোন লোকের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, অতঃপর সে তার মাকে গালি দেয়।” (বুখারী পর্ব ৭৮/অধ্যায় ৪ হাঃ ৫৯৭৩)

    ‘আপনিও হোন ইসলামের প্রচারক’  প্রবন্ধের লেখা অপরিবর্তন রেখে এবং উৎস উল্লেখ্য করে আপনি Facebook, Twitter, ব্লগ,What’sapp , আপনার বন্ধুদের Email Address সহ অন্য Social Networking ওয়েবসাইটে শেয়ার করতে পারেন, মানবতার মুক্তির লক্ষ্যে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দিন। “কেউ হেদায়েতের দিকে আহবান করলে যতজন তার অনুসরণ করবে প্রত্যেকের সমান সওয়াবের অধিকারী সে হবে, তবে যারা অনুসরণ করেছে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবেনা” [সহীহ্ মুসলিম: ২৬৭৪] Dawah in Media us A phenomenal and reaching to hundreds of millions via internet is an index of growing popularity of Islam let’s Reach out to more people and earn sawaab e jaariya . আরো বিস্তারিতভাবে জানতে লিঙ্কে কিল্ক করুন
    আর্টিকেল

    Print Friendly, PDF & Email

৪ thoughts on “😰😰😰অশ্লীল গালাগালি করা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ😰😰😰

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Skip to toolbar