তারাবীহ-র ফজিলত

Spread the love

তারাবীহ নামাজ

 

তারাবীহ-র ফজিলত

 

রাসূল (সাঃ) বলেন, “(হে আমার উম্মতগন), তোমরা জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের উপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং উহার রাত্রে তারাবীহের নামাজ সুন্নাত করেছেন। অতএব, যে ব্যক্তি খালেস নিয়তে ঈমানের সাথে কেবল সোয়াবের আশায় এ মাসে দিনের বেলায় রীতিমত রোজা রাখবে এবং রাত্রিতে রীতিমত তারাবীহের নামাজ পড়বে তার বিগত সব সগীরা গুনাহ মিটিয়ে দেয়া হবে।”

অতএব, এ পবিত্র মাসে অধিক নেকী সঞ্চয় করে লওয়া উচিৎ। এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের ৭০টি ফরজের সমান নেকী পাওয়া যায়।

তারাবীহ নামাজের সময়

রমজান মাসের প্রথম তারিখের চাঁদ দেখা হইতে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার পূর্ব রাত্রি পর্যন্ত প্রতিদিন এশার নামাজের পরে বিতর নামাজের পূর্বে দুই রাকআত করে মোট বিশ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবীহর নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

তারাবীহ নামাজের জামায়াত

রাসুল (সাঃ) রমজানে তিন রাত ২৩, ২৫ এবং ২৭ শে রাত তারাবীহ নামাজ জামায়াতে পড়িয়েছিলেন। তারপর তিনি যখন সাহাবীদের মধ্যে বিরাট উৎসাহ উদ্দীপনা ও অনুরাগ দেখলেন তখন মসজিদে এলেন না। সাহাবাগন তখন তাঁ দরজায় আওয়াজ দিতে লাগলেন। তখন নবীজি বললেন, আল্লাহ তোমাদের উৎসাহ উদ্দীপনায় আরও বরকত দিন । আমি এ আশংকায় মসজিদে যাইনি যে, এ নামাজ তোমাদের উপর ফরজ হয়ে না যায় এবং সর্বদা তোমরা তা পালন করতে না পার। কারণ, নফল নামাজ ঘরে পড়াতে বেশী সওয়াব ও বরকতের জারণ হয় (বুখারী)।

এ হাদিস থেকে প্রমানিত হয় যে, রাসূল (সাঃ) ৩ রাত জামায়াতের পরে দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রাঃ) রীতিমত জামায়াত কায়েম করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম তা মেনে নেন। পরবর্তীকালে কোন খলিফাই এ সুন্নতের বিরোধিতা করেননি। এ জন্য আলেম সমাজ এ নামাজকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ কিফায়া বলেছেন।

তারাবীহ নামাজের নিয়ত

আরবীতে উচ্চারণঃ নাওয়াইতুয়্যান উছাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা রাকাতাই ছালাতিত তারাবীহ, ইক্তুদাইতু বিহাযাল ইমাম(** ইক্তুদাইতু বিহাযাল ইমাম — এই অংশটুকু শুধুমাত্র জামায়াতের সাথে নামাজ পড়ার সময় পড়বেন, নিজে ঘরে পড়লে এটা বাদ দিয়ে পড়বেন।) সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তায়ালা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলায় নিয়াতঃ কিবলামুখী হয়ে দু’রাকায়াত তারাবীর নামাজ এই ইমামের পিছনে আদায় করছি “আল্লাহু আকবার”।

চার রাকাআতের পরের দোয়া

আরবীতে উচ্চারণঃ সুবহানাযিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা যিল ইজ্জাতি, ওয়াল আজমাতে, ওয়াল হায়বাতি,ওয়াল কুদরাতি, ওয়াল কিবরিয়ায়ি ওয়া জাবারুত। সুবহানাল মালিকিল হায়্যিল্লাযী লা ইয়ানামু ওয়ালা ইয়ামুতু আবাদান আবাদা, সুববুহুন ক্কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালা-ইকাতি ওয়ার রূহ ।

বাংলায় নিয়াতঃ পবিত্রতে ঘোষণা করছি তাঁর, যিনি ইহজগত, ফেরেশতা জগতের প্রভু সেই আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করছি যিনি মহিমাময় বিরাট, ভীতিপূর্ণ, শক্তিময়, গৌরবময় এবং বভত্তর। আমি সে প্রতিপালকের গুনগান করছি, যিনি চিরঞ্জীব, যিনি কখনও নিদ্রা যান না এবং যাঁর কখনও মৃত্যু ঘটে না। পুতঃপবিত্র তিনি। তিনি আমাদের পালনকর্তা, ফেরেশতাকুল এবং আত্মাসমূহের পালনকর্তা। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি, আমরা আপনার কাছে বেহেশত চাচ্ছি এবং দোযখ থেকে মুক্তি চাচ্ছি ।

তারাবীহ-র মোনাজাত

আরবীতে উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা ইন্না নাসয়ালুকাল জান্নাতা ওয়া নাউযুবিকা মিনান্নারি ইয়া খালিকাল জান্নাতি ওয়ান্নারি, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু, ইয়া গাফফারু, ইয়া কারিমু, ইয়া সাত্তারু, ইয়া রাহিমু, ইয়া জাব্বারু, ইয়া খালীকু, ইয়া বার। আল্লাহুম্মা আযিরনা মিনান্নারি, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, বিরাহমাতিকা ইয়া আর হামার রাহিমীন ।

বাংলায় নিয়াতঃ হে আল্লাহ, আপনারই সমীপে জান্নাত প্রার্থনা করছি এবং আপনারই কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাচ্ছি। হে জান্নাত এবং জাহান্নামের সৃষ্টিকর্তা ! আপনি নিজ কৃপায়, হে প্রাক্রমশালী, হে ক্ষমাশীল, হে মহান, হে দোষ গোপনকারী, হে দয়ালু, হে সৃষ্টিকর্তা পুন্যময়, হে আশ্রয় দাতা, হে আশ্রয় দাতা, হে আশ্রয় দাতা, নিজ কৃপায় হে আল্লাহ ! পরম দয়ালু করুণাময়, আমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচান।

Print Friendly, PDF & Email

২ thoughts on “তারাবীহ-র ফজিলত

  1. I have been exploring for a little for any high-quality articles or weblog posts on this sort of space . Exploring in Yahoo I ultimately stumbled upon this site. Studying this information So i am happy to exhibit that I’ve a very excellent uncanny feeling I came upon just what I needed. I so much for sure will make certain to don?¦t omit this site and give it a glance on a constant basis.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Skip to toolbar