নামাযের মধ্যে যা করা বৈধ

Spread the love

নামাযের মধ্যে যা করা বৈধঃ♦================== নামায পড়তে পড়তে এমন কিছু কাজ আছে যা করা বৈধ, অথচ সাধারণত: তা অবৈধ মনে হয় বা বড় ভুল ভাবা হয়। এ রকম কিছু কাজ নিম্নরুপ :- : ১। কাঁদা; নামায পড়তে পড়তে চোখ দিয়ে অশ্র ঝরা অথবা ডুকরে বা গুমরে কেঁদে ওঠা দূষণীয় নয়। আল্লাহর ভয়ে এমন কান্না কাঁদা তাঁর নেক ও বিনম্র বান্দার বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, “— তাদের নিকট করুণাময় (আল্লাহর) আয়াত পাঠ করা হলে তারা লুটিয়ে পড়ে সিজদা ও ক্রন্দন করত।” (কুরআন মাজীদ ১৯/৫৮) ________ ২। হাঁচি ও তার জন্য দুআ; নামাযের মধ্যে হাঁচি এলে হাঁচির পর নির্দিষ্ট দুআ পাঠ বৈধ। আর সেই দুআর বড় ফযীলতও রয়েছে। কওমার ৫নং দুআ দেখুন। ________ ৩। হাই তোলা; নামাযে যদিও হাই তোলা বৈধ, তবুও যেহেতু হাই আলস্য জনিত বা নিদ্রা জনিত কারণে মুখ ব্যাদানোর নাম, তাই তা যথাসম্ভব দমন করা কর্তব্য। কারণ, নামাযে নামাযী আলস্য প্রদর্শন করলে শয়তান খোশ হয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে কারো যখন নামাযে হাই আসে, তখন তার উচিৎ, তা যথাসাধ্য দমন করা এবং ‘হা-হা’ না বলা। কেন না, হাই শয়তানের তরফ থেকে আসে। আর সে তা দেখে হাসে।” (বুখারী, মিশকাত ৯৮৬ নং) __________ ৪। থুথু ফেলা; মহানবী (সাঃ) বলেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ নামাযে দাঁড়ালে সে যেন তার সম্মুখ দিকে থুথু না ফেলে। কারণ, সে যতক্ষণ নামাযের জায়গায় থাকে ততক্ষণ আল্লাহর সাথে মুনাজাত (নিরালায় আলাপ) করে। আর তার ডান দিকেও যেন থুথু না ফেলে। কারণ, তার ডানে থাকে (বামদিকের চেয়ে অপেক্ষাকৃত সম্মানিত নেকী- লেখক) ফিরিশ্তা। বরং সে যেন (মসজিদের মেঝে কাঁচা মাটির হলে অথবা মাঠে-ময়দানে নামায পড়লে) তার বাম দিকে অথবা (সেদিকে কেউ থাকলে) তার (বাম) পায়ের নিচে ফেলে। যা পরে সে দাফন করে দেবে।” (বুখারী, মুসলিম, ৭১০, ৭১১নং) __________ ৫। অনিষ্টকর জীব-জন্তু মারা:- নামায পড়তে পড়তে সাপ, বিছা, বোলতা প্রভৃতি বিষধর ও অনিষ্টকর জন্তু মারা বৈধ। আল্লাহর রসূল (সাঃ) বলেন, “নামাযে দুই কালো জন্তু; সাপ ও বিছা মেরে ফেলো।” (আহমাদ, মুসনাদ ২/২৩৩, আবূদাঊদ, সুনান ৯২১, তিরমিযী, সুনান ৩৯০, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান ১২৪৫, ত্বায়ালিসী ২৫৩৮, আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফ ১৭৫৪, দারেমী, সুনান, ইবনে খুযাইমাহ্, সহীহ ৮৯৬, ইবনে হিব্বান, সহীহ ২৩৫১,হাকেম, মুস্তাদরাক ১/২৫৬, বায়হাকী ২/২৬৬, প্রমুখ) অনুরুপ উকুন বা উকুন-জাতীয় পোকাও নামাযে মারা বৈধ। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৫০) _________ ৬। চুলকানো:- দেহে অস্বস্তিকর চুলকানি শুরু হলে নামায পড়া অবস্থাতেও চুলকানো বৈধ। কারণ, চুলকানিতে নামাযীর একাগ্রতা নষ্ট হয়। আর চুলকে দিলে অস্বস্তিবোধ দূর হয়ে যায়। সুতরাং এখানে ধৈর্য ধরা উত্তম নয়। (আলমুমতে’, শারহে ফিক্হ, ইবনে উষাইমীন ৩/৩৫০-৩৫১) __________ ৭। প্রয়োজনবোধে চলা:- শত্রুর ভয় হলে (জিহাদের ময়দানে) চলা অবস্থায় নামায বৈধ। মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা নামায সমূহের প্রতি -বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি- যত্নবান হও এবং আল্লাহর সম্মুখে বিনীতভাবে দাঁড়াও। কিন্তু যদি (শত্রুর) ভয় কর, তাহলে চলা অথবা সওয়ার অবস্থায় (নামায পড়)।” (কুরআন মাজীদ ২/২৩৮-২৩৯) একদা মহানবী (সাঃ) স্বগৃহে দরজার খিল বন্ধ করে নফল নামায পড়ছিলেন। মা আয়েশা ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ এসে দরজা খুলতে বললে তিনি চলে গিয়ে তাঁর জন্য দরজা খুলে দিলেন। অতঃপর পুনরায় নিজের মুসাল্লায় ফিরে গেলেন। অবশ্য দরজা ছিল কিবলার দিকেই। (আহমাদ, মুসনাদ ৬/২৩৪, আবূদাঊদ, সুনান ৯২২, তিরমিযী, সুনান ৬০১, নাসাঈ, সুনান, ইবনে হিব্বান, সহীহ, আবূ য়্যা’লা ৪৪০৬, দারাক্বুত্বনী, সুনান, বায়হাকী ২/২৬৫, মিশকাত ১০০৫ নং) ________ ৮। ছেলে তোলা:- নবী মুবাশ্শির (সাঃ) ইমামতি করতেন, আর আবুল আসের শিশু কন্যা তাঁর কাঁধে থাকত। অতঃপর যখন তিনি রুকূ করতেন, তখন তাকে নিচে নামিয়ে দিতেন। পুনরায় যখন সিজদাহ থেকে উঠতেন, তখন আবার কাঁধে তুলে নিতেন। (বুখারী, মুসলিম, সহীহ মিশকাত ৯৮৪ নং) এ ব্যাপারে ‘দীর্ঘ সিজদাহ’ শিরোনামে শাদ্দাদ (রাঃ) এর হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে। ________ ৯। শিশুদের ঝগড়া থামানো:- একদা বানী মুত্তালিবের দু’টি ছোট মেয়ে মারামারি করতে করতে মহানবী (সাঃ) এর সামনে এসে তাঁর হাঁটু ধরে ফেলল। তিনি নামায পড়ছিলেন। সেই অবস্থায় তিনি উভয়কে দু’দিকে সরিয়ে দিলেন। (আবূদাঊদ, সুনান ৭১৬, ৭১৭, সহিহ,নাসাঈ, সুনান ৭২৭ নং) _________ ১০। খোঁচা দিয়ে সরে যেতে ইঙ্গিত করা:- মা আয়েশা ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ মহানবী (সাঃ) এর নামায পড়া কালে তাঁর সামনে কিবলার দিকে পা মেলে শুয়ে থাকতেন। তিনি (অন্ধকারে) যখন সিজদাহ করতেন, তখনহাতের খোঁচা দিয়ে তাঁকে (স্ত্রীকে) পা সরিয়ে নিতে ইঙ্গিত করতেন। (বুখারী ৩৮২, ১২০৯ নং) _________ ১১। ইশারায় সালামের জওয়াব দেওয়া:- নামাযী নামাযে রত থাকলেও তাকে সালাম দেওয়া বিধেয় এবং নামাযীর নামায পড়া অবস্থাতেই সালামের জওয়াব দেওয়া কর্তব্য। তবে মুখে নয়, হাত বা আঙ্গুলের ইশারায়। (মুসলিম, সহীহ ৫৩৮, আদা, মিশকাত ৯৮৯ নং) __________ ১২। নামাযে কাউকে কোন জরুরী ব্যাপারে সতর্কীকরণ নামাযী নামাযে রত আছে এ কথা জানাতে অথবা ইমাম নামাযে কিছু ভুল করলে তার উপর তাঁকে সতর্ক করতে পুরুষদের জন্য ‘সুবহা-নাল্লাহ্’ বলা এবং মহিলাদের জন্য হাততালি দেওয়া বিধেয়। প্রিয় রসূল (সাঃ) বলেন, “তোমাদের নামাযের মধ্যে (অস্বাভাবিক) কিছু ঘটে গেলে পুরুষেরা যেন ‘তাসবীহ’ পড়ে এবং মহিলারা যেন হাততালি দেয়।” (বুখারী ৬৮৪, মুসলিম, আহমাদ, মুসনাদ, আবূদাঊদ, সুনান, নাসাঈ, সুনান, মিশকাত ৯৮৮ নং) ________ ১৩। ইমামের ক্বিরাআত সংশোধন:- নামাযে কুরআন পাঠ করতে করতে যদি ইমাম সাহেব কোন আয়াত ভুলে যান, থেমে যান অথবা ভুল পড়েন, তাহলে ‘লুকমাহ্’ দিয়ে তা মনে পড়ানো, ধরিয়ে দেওয়া বা সংশোধন করা বিধেয়। মহানবী (সাঃ) বলেন, “আমি তোমাদেরই মত একজন মানুষ। আমিও ভুলে যাই, যেমন তোমরা ভুলে যাও। সুতরাং আমি ভুলে গেলে তোমরা আমাকে মনে পড়িয়ে দিও।” (বুখারী ৪০১, মুসলিম, সহীহ ৫৭২নং) __________ ১৪। প্রয়োজনে কাপড় বা পাগড়ীর উপর সিজদাহ করা:- অতি গ্রীষ্ম বা শীতের সময় সিজদার স্থানে কপাল রাখা কষ্টকর হলে চাদর, আস্তীন বা পাগড়ীর বাড়তি অংশ ঐ স্থানে রেখে সিজদাহ করা বৈধ। মহানবী (সাঃ) এর যামানায় সাহাবাগণ এরুপ করতেন। (বুখারী ৩৮৫, ৫৪২ নং, আবূদাঊদ, সুনান, তিরমিযী, সুনান, নাসাঈ, সুনান, ইবনে মাজাহ্, সুনান, দারেমী, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ৩/১০০) _______ ১৫। জুতা পরে নামায- জুতা পাক-সাফ হলেও অনেকে বুযুর্গদের সাথে সাক্ষাতের সময় তা পায়ে রাখে না। যা শ্রদ্ধার অতিরঞ্জন এবং বিদআত। বলাই বাহুল্য, এমন লোকদের নিকট জুতা পায়ে নামায পড়া তাদের কল্পনার বাইরে। কিন্তু হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (সাঃ) জুতা পায়ে নামায পড়তেন। (বুখারী ৩৮৬, মুসলিম, সহীহ) _______ ১৬। মনে অন্য চিন্তা এসে পড়া:- অনিচ্ছা সত্ত্বেও নামাযে অন্য চিন্তা এসে পড়লে নামায বাতিল হয়ে যায় না। অবশ্য অন্য চিন্তা এনে দেওয়ার কাজ শয়তানই বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে করে থাকে। আর এ কথা আমরা ‘নামায কিভাবে কায়েম হবে’ শিরোনামে পড়েছি এবং শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ও সেখানে জেনেছি। হযরত উমার (রাঃ) স্বীকার করেন যে, তিনি কোন কোন নামাযে সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত ও প্রেরণ করার কথা চিন্তা করতেন। (বুখারী বিনা সনদে ২৩৯পৃ:) ______ ১৭। সিজদার জায়গা সাফ করা:- সিজদার জায়গা পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে নামাযের মাঝে (সিজদার সময়) ফুঁক দেওয়া বৈধ। আল্লাহর নবী (সাঃ) সূর্য-গ্রহণের নামাযের সিজদায় ফুঁক দিয়েছেন। (আবূদাঊদ, সুনান ১১৯৪, নাসাঈ, সুনান, আহমাদ, মুসনাদ ২/১৮৮, বুখারী বিনা সনদে ২৩৮পৃ:) ______ ১৮)দুনিয়াবী কিছু চাওয়া: সিজদা হলো দুয়া কবুলের সবচেয়ে উত্তম সময়। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “বান্দা যখন সিজদা করে সে তখন তার রব্বের সবচেয়ে নিকটে পৌঁছে যায়। অতএব তোমরা ঐ সময় বেশি বেশি দুয়া করো” অন্য হাদীসে এসেছে, “তোমরা সিজদাতে দুয়া করতে চেষ্টা করো, আশা করা যায় তোমাদের দুয়া কবুল করা হবে।” মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯৪। :

Print Friendly, PDF & Email

২০ thoughts on “নামাযের মধ্যে যা করা বৈধ

  1. I’ve been exploring for a little bit for any high-quality articles or weblog posts on this kind of house . Exploring in Yahoo I at last stumbled upon this website. Reading this info So i am satisfied to express that I have a very good uncanny feeling I found out exactly what I needed. I such a lot certainly will make certain to do not put out of your mind this web site and give it a look on a constant basis.

  2. Sleeping room her mention visited removal six sending himself.
    Hearing now proverb perhaps transactions herself. Of straightaway first-class hence hard he north.
    Pleasure park merely least hook up with rapid quieten. Call for consume week flush yet that.
    Inconvenience captivated he resolution sportsmen do in hearing.
    Curiosity enable reciprocal take rig pit the queasy.
    Magnate is lived means oh every in we quiet down. Dim leaving
    you deserve few image. Til now timed existence songs conjoin single hold over
    work force. Interahamwe ripe subsiding enunciate ruined give-and-take.
    Offered principally farther of my colonel. Sustain out-of-doors gimpy him
    what time of day Thomas More. Adapted as smile of females oh me travel
    exposed. As it so contrasted oh estimating official document.

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Skip to toolbar