দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতার ওজুহাত গ্রহণযোগ্য কি না?

Spread the love

দ্বীনের বিষয়ে অজ্ঞতার ওজুহাত গ্রহণযোগ্য কি না?­
🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸🔸 🔸🔸
প্রশ্ন : আমরা জানি যে — “যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।” আমি জানতে চাচ্ছি যে, দেশের এমন অনেক মানুষ আছে যারা আসলে ঐ হাদিসটা সম্পর্কে জানে না বা শুনলেও বুঝে না। তারা না জেনে, না বুঝেই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলে। তাহলে তারাও কি এই হাদিসের আওতায় পড়বে?
===================================

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন:
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَإنَّهُ مِنْهُمْ
“যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত হবে অর্থাৎ তার হাশর-নশর তাদের সাথে হবে।” (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১)
এ হাদীসের আলোকে মুসলিমদের জন্য কাফেরদের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সাদৃশ্য গ্রহণ করা বা তাদের অনুকরণ করা হারাম প্রমাণিত হয়।

⏩কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য সম্পর্কীত হোক অথবা অন্য কোন হারাম বিষয় হোক সে ক্ষেত্রে অজ্ঞতা কি গ্রহনযোগ্য?
উত্তর: কিছু কিছু বিষয় আছে যেগুলো দ্বীনের সুস্পষ্ট বিষয়। যেগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য নয়। (যেমন, শিরক, ও কুফুরী সম্পর্কীত বিষয়, ইসলামের মৌলিক বিধিবিধান যেমন: সালাত, সিয়াম, যাকাত, হজ্জ ইত্যাদি। ) বিশেষ করে মুসলিম দেশে বসবাস করে, ইন্টারনেট, টিভি, চ্যানেল, ব্যাপক লেখালেখি, পত্র-পত্রিকা, আলেমদের বক্তৃতা, ওয়াজ মাহফিল ইত্যাদি মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের সুযোগ থাকার পরও যদি কেউ বলে যে, ‘আমি জানতাম না’ তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। বরং এটি তার অবহেলা হিসেবে পরিগণিত হবে।
অবশ্য যদি সত্যিকার ভাবে চেষ্টা থাকার পরও জানার সুযোগ না পায় তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তার অজ্ঞতাকে গ্রহণ করবেন। কেননা, আল্লাহ তাআলা কোন জাতিকে শাস্তি দেন না যতক্ষণ না তাদের কাছে প্রমাণ ও হুজ্জত না পাঠান।
আল্লাহ তা’আলা বলেন:
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّىٰ نَبْعَثَ رَسُولًا
“কোন রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত আমি কাউকেই শাস্তি দান করি না।”
-(Sura Al-Isra’, Ayah 15)
এ অর্থ বোধক একাধিক আয়াত রয়েছে। আর আল্লাহ অবশ্যই মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সবেচেয়ে বেশি জানেন।

আর কিছু ছোট ছোট বিষয় আছে যেগুলোর বিধান সম্পর্কে অস্পষ্ট জ্ঞান রাখে বা ভুল তথ্য জেনেছে বা তার কাছে এমন কিছু দলীল আছে যেগুলোর আলোকে সে তা বৈধ মনে করে অথচ তা হারাম তাহলে এ ক্ষেত্রে তার ওজুহাত গ্রহণযোগ্য। অর্থাৎ এ সব ক্ষেত্রে অজ্ঞতা বশত: সে যদি দেখা দেখি, বা যুগের সাথে তাল মিলাতে গিয়ে বিপথে চলে যায় তাহলে ইনশাল্লাহ আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন। যেহেতু সে ব্যাপারে তার কাছে সঠিক জ্ঞান পৌঁছে নি। তবে মুক্তিকামী মানুষের জন্য আবশ্যক হল হক বা সঠিক জিনিসটি জানার চেষ্টা অব্যহত রাখা। বই পুস্তক পড়া, নির্ভরযোগ্য বড় আলেমদের স্বরণাপন্ন হওয়া। এ ক্ষেত্রে অবহেলা করার সুযোগ নাই।
সব চেষ্টা থাকার পরও যদি সঠিক জিনসটি জানতে ব্যার্থ হয় তাহলে নিশ্চয় আল্লাহ তার নিয়তের কারণে তাকে মুক্তি দান করবেন বলে আশা করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করে তদনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমীন

উত্তর প্রদানে: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
(লিসান্স, মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, সউদী আরব)
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

আমাদের ওয়েবসাইটের আরও অন্যান্য পোষ্ট গুলি পড়তে এবং নিয়মিত ইসলামীক পোষ্ট পেতে https://sohihdinerpothe.com/ লিঙ্কে ক্লিক করুন

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published.