কিয়ামতের দিন শাফায়াত লাভের জন্য কতিপয় আমল..

Spread the love

কিয়ামতের দিন শাফায়াত লাভের জন্য কতিপয় আমল

১) একনিষ্ঠ ভাবে আল্লাহর ইবাদত করা ও তাওহীদ বাস্তবায়নকরা:আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামবলেছেন:« ﺃَﺳْﻌَﺪُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺑِﺸَﻔَﺎﻋَﺘِﻰ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻣَﻦْ ﻗَﺎﻝَ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﺍﻟﻠَّﻪُ ، ﺧَﺎﻟِﺼًﺎﻣِﻦْ ﻗَﻠْﺒِﻪِ ﺃَﻭْ ﻧَﻔْﺴِﻪِ »“কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত লাভে সেই ব্যক্তি সৌভাগ্য মণ্ডিতহবে, যে আন্তরিকভাবে বলবে: `লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তথাআল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই।” (সহীহ বুখারী,অনুচ্ছেদ,হাদীসের প্রতি আগ্রহ, হাদীস নং ৯৯,শামেলা)২) কুরআন পাঠ করা: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)বলেন:ﺍﻗْﺮَﺀُﻭﺍ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻳَﺄْﺗِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺷَﻔِﻴﻌًﺎ ﻟِﺄَﺻْﺤَﺎﺑِﻪِ“তোমরা কুরআন পাঠ কর। কেননা,কুরআন কিয়ামতের দিন তারপাঠকদের জন্য সুপারিশ কারী হবে।”(সহীহ মুসলিম)।৩) রোযা রাখা: আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত। রাসূলসাল্লাল্লাহু আলাই হওয়া সাল্লাম বলেছেন:« ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡُ ﻭَﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻳَﺸْﻔَﻌَﺎﻥِ ﻟِﻠْﻌَﺒْﺪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﺼِّﻴَﺎﻡُ ﺃَﻯْ ﺭَﺏِّﻣَﻨَﻌْﺘُﻪُ ﺍﻟﻄَّﻌَﺎﻡَ ﻭَﺍﻟﺸَّﻬَﻮَﺍﺕِ ﺑِﺎﻟﻨَّﻬَﺎﺭِ ﻓَﺸَﻔِّﻌْﻨِﻰ ﻓِﻴﻪِ. ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻣَﻨَﻌْﺘُﻪُﺍﻟﻨَّﻮْﻡَ ﺑِﺎﻟﻠَّﻴْﻞِ ﻓَﺸَﻔِّﻌْﻨِﻰ ﻓِﻴﻪِ. ﻗَﺎﻝَ ﻓَﻴُﺸَﻔَّﻌَﺎﻥِ“রোযা এবং কুরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে।রোযা বলবে, হে প্রভু, আমি তাকে দিনের বেলায় খাদ্য ওপ্রবৃত্তির চাহিদা পূরণে বাধা দিয়েছিলাম। অত:এব আপনি তারব্যাপারে আমার শাফায়ত কবুল করুন। আর কুরআন বলবে, আমিতাকে রাতের বেলায় ঘুম থেকে বাধা দিয়েছিলাম। অতএব,তারব্যাপারে আমার শাফায়ত কবুল করুন। অত:পর তাদের শাফায়াতকবুল করা হবে।” (মুসনাদ আহমদ, মুসনাদ আব্দুল্লাহ ইবনেআমর হাদীস নং ৬৭৮৫, শামেলা, সনদ সহীহ)৪) আযানের দুয়া পাঠ করা: আলী ইবনু আইয়াশ (রহঃ) জাবির ইবনুআবদুল্লাহ (রা:) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শোনার পর এদোয়া পড়বে:« ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺭَﺏَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟﺪَّﻋْﻮَﺓِ ﺍﻟﺘَّﺎﻣَّﺔِ ﻭَﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺍﻟْﻘَﺎﺋِﻤَﺔِ،ﺁﺕِ ﻣُﺤَﻤَّﺪًﺍ ﺍﻟْﻮَﺳِﻴﻠَﺔَﻭَﺍﻟْﻔَﻀِﻴﻠَﺔَ ، ﻭَﺍﺑْﻌَﺜْﻪُ ﻣَﻘَﺎﻣًﺎ ﻣَﺤْﻤُﻮﺩًﺍ ﺍﻟَّﺬِﻯ ﻭَﻋَﺪْﺗَﻪُ، ﺣَﻠَّﺖْ ﻟَﻪُ ﺷَﻔَﺎﻋَﺘِﻰﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ »“হে আল্লাহ,এ পরিপূর্ণ আহবান এবং প্রতিষ্ঠিত সালাত এরপ্রতিপালক, মুহাম্মদ কে ওসিলা ও শ্রেষ্ঠত্ব দান কর। প্রতিষ্ঠিতকর তাকে মাকামে মাহমুদে, যার ওয়াদা তাঁকে তুমি দিয়েছ।”কিয়ামতের দিন তার জন্য আমার শাফায়াত অনিবার্য হয়ে যাবে।এ হাদিসটি হামযা ইবনু আবদুল্লাহ তার পিতা থেকে,তিনি রাসুলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন)(সহীহ বুখারি (ইফা),অধ্যায়: ৫২/ তাফসীর, হাদীস নাম্বার:4360)৫) মদীনা মুনাওয়ারার কষ্টে ধৈর্য ধারণ করা ও সেখানেমৃত্যু বরণ করা:ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﻣَﻮْﻟَﻰ ﺍﻟْﻤَﻬْﺮِﻯِّ ﺃَﻧَّﻪُ ﺟَﺎﺀَ ﺃَﺑَﺎ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺍﻟْﺨُﺪْﺭِﻯَّ ﻟَﻴَﺎﻟِﻰَ ﺍﻟْﺤَﺮَّﺓِﻓَﺎﺳْﺘَﺸَﺎﺭَﻩُ ﻓِﻰ ﺍﻟْﺠَﻼَﺀِ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻭَﺷَﻜَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﺃَﺳْﻌَﺎﺭَﻫَﺎ ﻭَﻛَﺜْﺮَﺓَ ﻋِﻴَﺎﻟِﻪِﻭَﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺻَﺒْﺮَ ﻟَﻪُ ﻋَﻠَﻰ ﺟَﻬْﺪِ ﺍﻟْﻤَﺪِﻳﻨَﺔِ ﻭَﻷْﻭَﺍﺋِﻬَﺎ . ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻭَﻳْﺤَﻚَ ﻻَﺁﻣُﺮُﻙَ ﺑِﺬَﻟِﻚَ ﺇِﻧِّﻰ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ – ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- ﻳَﻘُﻮﻝُ ‏«ﻻَ ﻳَﺼْﺒِﺮُ ﺃَﺣَﺪٌ ﻋَﻠَﻰ ﻷْﻭَﺍﺋِﻬَﺎ ﻓَﻴَﻤُﻮﺕَ ﺇِﻻَّ ﻛُﻨْﺖُ ﻟَﻪُ ﺷَﻔِﻴﻌًﺎ ﺃَﻭْ ﺷَﻬِﻴﺪًﺍ ﻳَﻮْﻡَﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺇِﺫَﺍ ﻛَﺎﻥَ ﻣُﺴْﻠِﻤًﺎ ».ঐতিহাসিক হাররার ঘটনার সময় আবু সাঈদ মাওলা আল মাহরী আবুসাঈদ খুদরীর রা. এর নিকট এসে মদীনা থেকে অন্যত্রচলে যাওয়ার জন্য পরামর্শ চাইলেন। তিনি অভিযোগ করলেন,মদীনার আসবাব-পত্র ও পণ্যের দাম বেশি এবং তার সন্তান-সন্ততির সংখ্যাও প্রচুর। এও বললেন, মদীনার এই দু:খ ওকষ্টে ধৈর্য ধারণ করার ক্ষমতা তার নেই। আবু সাঈদ খুদরীতাকে বললেন,আফসোস! তোমাকে এ পরামর্শ দিতে পারিনা। কারণ, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতেশুনেছি:“যে ব্যক্তি মদীনার দু:খ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে এবংসেখানেই মৃত্যু বরণ করে কিয়ামতের দিন আমি তার জন্যশুপারিশকারী বা সাক্ষী হব যদি সে মুসলিম হয়।” (সহীহমুসলিম,অনুচ্ছেদ: মদীনায় বসবাস করা ও সেখানকার দু:খকষ্টে ধৈর্য ধারণ করার ব্যাপারে উৎসাহ দান, হাদীস নং৩৪০৫,শামেলা)৬) অধিক পরিমাণে সেজদা দেয়া তথা নফল সালাত আদায় করা:ﻛَﺎﻥَ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﻟِﻠْﺨَﺎﺩِﻡِ : ﺃَﻟَﻚَ ﺣَﺎﺟَﺔٌ ؟ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺘَّﻰ ﻛَﺎﻥَ ﺫَﺍﺕَ ﻳَﻮْﻡٍ ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ، ﺣَﺎﺟَﺘِﻲ ﻗَﺎﻝَ : ﻭَﻣَﺎﺣَﺎﺟَﺘُﻚَ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺎﺟَﺘِﻲ ﺃَﻥْ ﺗَﺸْﻔَﻊَ ﻟِﻲ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ، ﻗَﺎﻝَ : ﻭَﻣَﻦْﺩَﻟَّﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﻫَﺬَﺍ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ﺭَﺑِّﻲ ﻗَﺎﻝَ : ﺇِﻣَّﺎ ﻻَ ، ﻓَﺄَﻋِﻨِّﻲ ﺑِﻜَﺜْﺮَﺓِ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার খাদেমকে লক্ষ্যকরে যে সব কথা বলতেন সেগুলোর মধ্যে একটি কথাহল, “তোমার কি কোন দরকার আছে?”একদিন তিনি তার খাদেমকে এ কথাটি বললে-খাদেম: হে আল্লাহর রাসূল,আমার একটি জিনিস দরকার।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “তোমার কী জিনিসদরকার?”খাদেম: আপনি কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশ করবেন।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “কে তোমাকে এ বিষয়টিরসন্ধান দিলো?”খাদেম: আমার প্রতিপালক।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “এটাই যদি তোমার চাওয়া হয়তবে অধিক পরিমাণ সেজদা করা তথা বেশি বেশি নফল সালাতআদায়ের মাধ্যমে আমাকে (এ ব্যাপারে) সাহায্যকরো।” (মুসনাদ আহমদ,হাদীস নং ১৬৫০২,শামেলা)এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদীস:ﻋَﻦْ ﺭَﺑِﻴﻌَﺔَ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ ﺍﻟْﺄَﺳْﻠَﻤِﻲِّ – ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ- ﻗَﺎﻝَ : ﻛُﻨْﺖُ ﺃَﺑِﻴﺖُ ﻣَﻊَﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ- ﻓَﺄَﺗَﻴْﺘُﻪُ ﺑِﻮَﺿُﻮﺋِﻪِ ﻭَﺣَﺎﺟَﺘِﻪِ ﻓَﻘَﺎﻝَﻟِﻲ : ‏( ﺳَﻞْ ‏) ﻓَﻘُﻠْﺖُ : ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﻣُﺮَﺍﻓَﻘَﺘَﻚَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺠَﻨَّﺔِ، ﻗَﺎﻝَ : ‏(ﺃَﻭْ ﻏَﻴْﺮَ ﺫَﻟِﻚَ؟ ‏)ﻗُﻠْﺖُ : ﻫُﻮَ ﺫَﺍﻙَ، ﻗَﺎﻝَ : ‏( ﻓَﺄَﻋِﻨِّﻲ ﻋَﻠَﻰ ﻧَﻔْﺴِﻚَ ﺑِﻜَﺜْﺮَﺓِ ﺍﻟﺴُّﺠُﻮﺩِ )রাবীয়া বিন কা’ব আসলামী রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,আমিরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের (খেদমতেরউদ্দেশ্যে) তাঁর সাথেই রাতে থাকতাম। (একদিন) আমি তারজন্য ওযুর পানি ও তার প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস নিয়ে তার নিকটহাজির হলে তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন: চাও।আমি: আমি জান্নাতে আপনার সাথে থাকতে চাই।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: এটা ছাড়া অন্য কিছু?আমি: এটাই।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: “তোমার এ বিষয়েআমাকে সাহায্য করো অধিক পরিমাণে সেজদা করার মাধ্যমেঅর্থাৎ বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করার মাধ্যমে।(সহীহ মুসলিম, অনুচ্ছেদ: সেজদা করার মর্যাদা ও তাতেউদ্বুদ্ধ করণ, হাদীস নং ১১২২)

আসসালামু আলাইকুম ইসলামিক দলিল ভিত্তিক পোস্ট পেতে আমাদের এই মিডিয়ার সাথে থাকবেন সব সময়। এতে করে সঠিক টা জানতে পারবেন ও সঠিক আমল করতে পারবেন।আমাদের পেজ লিংক দেয়া আছে ওয়েবসাইট এ সেখানে চাইলে যেকোন প্রশ্ন করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ আমাদের এডমিন পেনেল আপনার উত্তর দলিল সহকারে দেয়ার চেস্টা করবেন। জাজাকাল্লাহু খাইরান

Print Friendly, PDF & Email

১৮ thoughts on “কিয়ামতের দিন শাফায়াত লাভের জন্য কতিপয় আমল..

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Skip to toolbar