কুরআনের কয়েকটি বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফজীলত

Spread the love
  • কুরআনের কয়েকটি বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফজীলত

    শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু
    বাজারে প্রচলিত বিদ’আত ও ভুলে ভরা বই এ আমরা কুরআনের প্রত্যেকটি সূরার কোন না কোন ফজীলতের কথা পড়েছি। অথচ এগুলো অনেকাংশেই দুর্বল ও জাল হাদিসের উপর ভিত্তি করে লেখা। এখানে কুরআনের যেসব সূরা ও আয়াতের কথা সহীহ হাদিসে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখিত হয়েছে, সে হাদিসগুলো একত্রে উপস্থাপন করা হল।
    সূরা ফাতিহা
    ১) আবু সাইদ রাফে’ ইবনে মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্নিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, “মসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কি কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব না?” এই সাথে তিনি আমার হাত ধরলেন। অতঃপর যখন আমরা বাহিরে যাওয়ার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি নিবেদন করলাম, “ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আপনি যে আমাকে বললেন তোমাকে অবশ্যই কুরআনের সব চেয়ে বড় (মাহাত্ম্যপূর্ণ) সূরা শিখিয়ে দেব?’ সুতরাং তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) ‘আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ (সূরা ফাতেহা)। এটি হচ্ছে ‘সাবউ মাসানি (অর্থাৎ নামাযে বারংবার পঠিতব্য সপ্ত আয়াত ) এবং মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে”। (সহীহুল বুখারি ৪৪৭৪)

  •                                                                          

    সূরা ইখলাস
    ২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “সেই মহান সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রান আছে, নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”।
    ৩) অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাগনকে বললেন, ‘তোমরা কি এক রাতে এক তৃতীয়াংশ কুরআন পড়তে অপারগ?’ প্রস্তাবটি তাদের পক্ষে ভারী মনে হল। তাই তারা বলে উঠলেন ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ কাজ আমাদের মধ্যে কে করতে পারবে?’ ( অর্থাৎ কেও পারবে না।) তিনি বললেন, “কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ” (সূরা ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (অর্থাৎ, এই সূরা পড়লে এক তৃতীয়াংশের কুরআন পড়ার সমান নেকী অর্জিত হয়।) (সহীহুল বুখারি ৫০১৫)
    ৪) উক্ত সাহাবী (রাঃ) আরো বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি কোন লোককে সূরাটি বারবার পড়তে শুনল। অতঃপর সে সকালে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিকট এসে তা ব্যক্ত করল। সে সূরাটিকে নগণ্য মনে করেছিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, “সেই সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ আছে, নিঃসন্দেহে এই সূরা (ইখলাস) কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান”।(সহীহুল বুখারি ৫০১৫)
    ৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) (সূরা) ‘কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ সম্পর্কে বলেছেন, “নিঃসন্দেহে এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমতুল্য”। (মুসলিম ৮১২)
    ৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্নিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি এই (সূরা) ‘কূল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ ভালবাসি। তিনি বললেন, ‘ এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে’। (সহীহুল বুখারি ৭৭৪)
    সূরা ফালাক ও সূরা নাস
    ৭) উকবাহ বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদা বললেন, ‘তুমি কি দেখনি, আজ রাতে আমার উপর কতকগুলি আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে; যার আনুরূপ আর কিছু দেখা যায়নি? (আর তা হল,) ‘কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক্ক’ ও ‘কুল আউযু বিরাব্বিল নাস’। (মুসলিম ৮১৪)
    ৮) আবূ সাঈদ খুদরী ( রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন ‘রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ক ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’ টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন’। (তিরমিজী ২০৫৮)
    সূরা মূলক
    ৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘কুরআনের তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা এমন আছে , যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে এবং শেষাবধি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে,সেটা হচ্ছে ‘তাবা-রাকাল্লাযী বিয়্যাদিহিল মূলক’ (সূরা মূলক)। (আবূ দাউদ ১৪০০)
    সূরা বাক্বারা
    ১০) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, একদা জিবরাইল (আঃ) নবী(সাঃ)-এর নিকট বসে ছিলেন। এমন সময় উপর থেকে একটি শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি (জিবরাইল) মাথা তুলে বললেন, ‘এটি আসমানের একটি দরজা, যা আজ খোলা হল। ইতোপূর্বে এটা কখনও খোলা হয় নাই। ওদিক দিয়ে একজন ফেরেশতা আবতির্ন হল। এই ফেরেশতা যে দুনিয়াতে অবতরণ করেছে,ইতোপূর্বে কখনও অবতরণ করেনি। সুতরাং তিনি এসে নবী (সাঃ)-কে সালাম জানিয়ে বললেন, ‘‘আপনি দুটি জ্যোতির সুসংবাদ নিন। যা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হই নাই। (সে দুটি হচ্ছে) সূরা ফাতেহা ও সূরা বাক্কারার শেষ আয়াতসমূহ । ওর মধ্যে হতে যে বর্নটিই পাঠ করবেন, তাই আপনাকে দেওয়া হবে।’’ (মুসলিম ৮০৬)
    ১১) আবূ মাসাঊদ বদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে সূরা বাক্বারার শেষ আয়াত দু’টি পাঠ করবে, তার জন্য সেই দু’টি যথেষ্ট হবে’।(সহীহুল বুখারি ৪০০৮)
    বলা হয়েছে যে, সে রাতে অপ্রীতিকর জিনিসের মোকাবেলায় যথেষ্ট হবে। অথবা তাহাজ্জুদের নামায থেকে যথেষ্ট হবে।
    ১২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা নিজিদের ঘর-বাড়িগুলোকে কবরে পরিণত করো না। কেননা, যে বাড়িতে সূরা বাক্কারা পাঠ করা হয়, সে বাড়ি থেকে শয়তান পলায়ন করে’। (মুসলিম ৭৮০)
    (অর্থাৎ সুন্নত ও নফল নামায তথা পবিত্র কুরআন পড়া ত্যাগ ক’রে ঘরকে কবর বানিয়ে দিয়ো না। যেহেতু কবরে এ সব বৈধ নয়)।
    আয়াতুল কুরসী পড়ার ফযীলত
    ১৩) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত,তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘হে আবূ মুনযির! তুমি কি জান,মহান আল্লাহর গ্রন্থ (আল-কুরাআন) এর ভিতর তমার যা মুখস্থ আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় (মর্যাদাপূর্ণ) আয়াত কোনটি?’ আমি বললাম, ‘সেটা হচ্ছে আয়াতুল কুরসী’। সুতরাং তিনি আমার বুকে চাপর মেরে বললেন, ‘আবুল মুনযির! তমার জ্ঞান তোমাকে ধন্য করুক’। (মুসলিম ৮১০)
    (অর্থাৎ তুমি, নিজ জ্ঞানের বর্কতে উক্ত আয়াতটির সন্ধান পেয়েছ, সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।)
    ১৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন (একবার) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে রমযানের জাকাত(ফিৎরার মাল-ধন) দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেন। বস্তুতঃ ( আমি পাহারা দিচ্ছিলাম ইত্যবসরে) একজন আগমনকারী এসে আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরলাম এবং বললাম, ‘তোকে অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর কাছে পেশ করব’; সে আবেদন করল,আমি একজন সত্যিকারের অভাবী। পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব আমার উপর, আমার দারুন অভাব’; কাজেই আমি তাকে ছেড়ে দিলাম।
    সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট হাযির হলাম); রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, ‘হে আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচারন করেছে’? আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে তার অভাব ও (অসহায়) পরিবার-সন্তানের অভিযোগ জানাল। সুতরাং তার প্রতি আমার দয়া হলে আমি তাকে ছেরে দিলাম’; তিনি বললেন, ‘ সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে’।
    আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আনুরুপ উক্তি শুনে সুনিশ্চিত হলাম যে, সে আবার আসবে। কাজেই আমি তার প্রতীক্ষায় থাকলাম। সে (পুর্ববৎ) এসে আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি বললাম, ‘অবশ্যই তোকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর কাছে পেশ করব’; সে বলল, ‘আমি অভাবী,পরিবারের দায়ত্ব আমার উপর, (আমাকে ছেড়ে দাও) আমি আর আসব না’;সুতরাং আমার মনে দয়া হল। আমি তাকে ছেরে দিলাম।
    সকালে উঠে (যখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম তখন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাকে বললেন, ‘‘আবূ হুরাইরা! গত রাতে তোমার বন্দী কী আচারন করেছে’? আমি বললাম, ‘ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাঃ)! সে তার অভাব ও অসহায় সন্তানের-পরিবারের অভিযোগ জানাল। সুতরাং আমার মনে দয়া হলে আমি তাকে ছেরে দিলাম’; তিনি বললেন, ‘ সতর্ক থেকো, সে আবার আসবে’।
    সুতরাং তৃতীয়বার তার প্রতীক্ষায় রইলাম। সে (এসে)আজঁলা ভরে খাদ্যবস্তু নিতে লাগল। আমি তাকে ধরে বললাম ‘‘এবারে তোকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) –এর দরবারে হাযির করবই’; এটা তিনবারের মধ্যে শেষবার । ‘ফিরে আসবো না’ বলে তুই আবার ফিরে এসেছিস’’; সে বলল ‘তুমি আমাকে ছেড়ে দাও, আমি তোমাকে এমন কতকগুলি শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ তোমার উপকার করবেন’; আমি বললাম ‘সেগুলি কী?’ সে বলল, ‘যখন তুমি (ঘুমাবার জন্য) বিছানাই যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ ক’রে (ঘুমাবে); তাহলে তোমার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রক্ষক নিযুক্ত হবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না’।
    সুতরাং আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। আবার সকালে (রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে গেলাম); তিনি আমাকে বললেন, ‘‘তোমার বন্দী কী আচারন করেছে?’’ আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! সে বলল, ‘‘ আমি তোমাকে এমন কতিপয় শব্দ শিখিয়ে দেব, যার দ্বারা আল্লাহ আমার কল্যাণ করবেন’’; বিধায় আমি তাকে ছেড়ে দিলাম’; তিনি বললেন ‘‘সে শব্দগুলি কী?’’ আমি বললাম, ‘সে আমাকে বলল, ‘‘যখন তুমি বিছানাই (শোয়ার জন্য) যাবে, তখন আয়াতুল কুরসী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ‘আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম’ পড়ে নেবে’’;সে আমাকে আর বলল, “তার কারনে আল্লাহর তরফ থেকে সর্বদা তোমার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত থাকবে। আর সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে শয়তান আসতে পারবে না’’।
    (এ কথা শুনে) তিনি (সাঃ) বললেন, ‘‘শোনো ! সে নিজে ভীষণ মিথ্যাবাদী; কিন্তু তোমাকে সত্য কথা বলেছে। হে আবূ হুরাইরা! তুমি জান, তিন রাত ধরে তুমি কার সাথে কথা বলছিলে?’’ আমি বললাম, ‘জী না’; তিনি বললেন, ‘‘সে ছিল শয়তান’’। (সহীহুল বুখারী ২৩১১)
    সূরা কাহফ
    ১৫) আবূ দার্দা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্ত করবে,সে দাজ্জালের(ফিৎনা) থেকে পরিএাণ পাবে।’’ অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। (মুসলিম ৮০৯)

আশা করি  গুরুত্ত্বপুর্ন অত্র আরটিকেল লেখাটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। এরকম আরটিকেল লেখা নিয়মিত পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে দৃষ্টি রাখুন নিয়মিত। ফেসবুকে  আমাকে রিকুয়েস্ট দিন Tajmaul Sk

Print Friendly, PDF & Email

লেখক পরিচিতিঃ

Tajmaul Skআসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহ মানিত্তাবাল হুদা
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
------
আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?" [সূরা-হামীম-সাজদাহ-৬৩"]
তাবলীগ অর্থ কি?
তাবলীগ কিসের করতে হবে?
তাবলীগ কিভাবে করতে হবে?
========================
তাবলীগ অর্থ''''''''
"তাবলীগ" অর্থ প্রচার করা, বা বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
তাবলীগ অর্থ কোনো দল না, যদিও বর্তমানে অনেক মানুষ মন করে তাবলীগ মানে একটা দল।

তাবলীগ কিসের করতে হবে''''''''''''
তাবলিগ করতে হবে “কুরআন” ও “সুন্নাহর” (সহীহ হাদীস)।

আল্লাহ তাআ'লা বলেছেনঃ
"ইয়া আয়্যুহার-রাসুলু বাল্লিগ মা উনযিলা ইলাইকা মির-রাব্বিকা"
অর্থঃ হে নবী! আপনি আপনার রব্বের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করুন।
[সূরা- মায়িদাহঃ ৬৭]

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ "বাল্লিগু আন্নি ওলাও আয়াহ"। [বুখারী-৩৪৬১]
অর্থঃ তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটা আয়াত হলেও প্রচার করে দাও।

রাসুলের উপর নাযিল করা হয়েছে – কুরআন ও সুন্নাহ। সুতরাং একজন মুসলিম শুধু কুরআন ও সুন্নাহর তাবলীগ করতে পারে্। পীর-মুরিদীর ব্যবসা, নিজের তরীকা বা ফেরকা, বুজুর্গদের ভুয়া কিচ্ছা কাহিনী, ঈমান-আকীদা বিধ্বংসী কথা বার্তা ও জাল হাদীস, এইসব সে প্রচার করতে পারেনা। সুফীবাদীদের লেখা ভেজাল আমলের কিতাবের তাবলীগ করতে পারেনা।

তাবলীগ কিভাবে করতে হবে'''''''''''''''''''
তাবলীগ করতে হলে নিজে জেনে-শুনেই করতে হবে, অজ্ঞতা নিয়ে দাওয়াত দিতে গেলে তাবলীগ হবে, কিন্তু দ্বীনের তাবলীগ হবেনা। শিরক-বিদআ’তের তাবলীগ হবে।

"(হে নবী আপনি) বলে দিনঃ এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে জেনে বুঝে দাওয়াত দেই, আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আর আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই।"
[সূরা- ইউসুফঃ ১০৮]

এই নিয়ম না মানার কারণে অনেক লোক আছে যারা তাবলীগ করার দাবী করে কিন্তু সে আসলে নিজের মনগড়া কাহিনী, জাল হাদীস, ভুয়া আমল, বেদাতী চিন্তা-ভাবনা ও কাজকর্ম প্রচার করে নিজেদের পরকালের ক্ষতি করছে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করছে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের যেন সঠিক টা বুঝে আমল করা ও প্রচার করার তাওফীক দান করেন, আমীন।। প্রণেতা by :-তাজমাউল সেখ !!

Tajmaul Sk

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন, ------ আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত’?" [সূরা-হামীম-সাজদাহ-৬৩"] তাবলীগ অর্থ কি? তাবলীগ কিসের করতে হবে? তাবলীগ কিভাবে করতে হবে? ======================== তাবলীগ অর্থ'''''''' "তাবলীগ" অর্থ প্রচার করা, বা বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তাবলীগ অর্থ কোনো দল না, যদিও বর্তমানে অনেক মানুষ মন করে তাবলীগ মানে একটা দল। তাবলীগ কিসের করতে হবে'''''''''''' তাবলিগ করতে হবে “কুরআন” ও “সুন্নাহর” (সহীহ হাদীস)। আল্লাহ তাআ'লা বলেছেনঃ "ইয়া আয়্যুহার-রাসুলু বাল্লিগ মা উনযিলা ইলাইকা মির-রাব্বিকা" অর্থঃ হে নবী! আপনি আপনার রব্বের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে তা প্রচার করুন। [সূরা- মায়িদাহঃ ৬৭] রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ "বাল্লিগু আন্নি ওলাও আয়াহ"। [বুখারী-৩৪৬১] অর্থঃ তোমরা আমার পক্ষ থেকে একটা আয়াত হলেও প্রচার করে দাও। রাসুলের উপর নাযিল করা হয়েছে – কুরআন ও সুন্নাহ। সুতরাং একজন মুসলিম শুধু কুরআন ও সুন্নাহর তাবলীগ করতে পারে্। পীর-মুরিদীর ব্যবসা, নিজের তরীকা বা ফেরকা, বুজুর্গদের ভুয়া কিচ্ছা কাহিনী, ঈমান-আকীদা বিধ্বংসী কথা বার্তা ও জাল হাদীস, এইসব সে প্রচার করতে পারেনা। সুফীবাদীদের লেখা ভেজাল আমলের কিতাবের তাবলীগ করতে পারেনা। তাবলীগ কিভাবে করতে হবে''''''''''''''''''' তাবলীগ করতে হলে নিজে জেনে-শুনেই করতে হবে, অজ্ঞতা নিয়ে দাওয়াত দিতে গেলে তাবলীগ হবে, কিন্তু দ্বীনের তাবলীগ হবেনা। শিরক-বিদআ’তের তাবলীগ হবে। "(হে নবী আপনি) বলে দিনঃ এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে জেনে বুঝে দাওয়াত দেই, আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আর আমি মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" [সূরা- ইউসুফঃ ১০৮] এই নিয়ম না মানার কারণে অনেক লোক আছে যারা তাবলীগ করার দাবী করে কিন্তু সে আসলে নিজের মনগড়া কাহিনী, জাল হাদীস, ভুয়া আমল, বেদাতী চিন্তা-ভাবনা ও কাজকর্ম প্রচার করে নিজেদের পরকালের ক্ষতি করছে, অন্যদেরকেও পথভ্রষ্ট করছে। আল্লাহ তায়ালা আমাদের যেন সঠিক টা বুঝে আমল করা ও প্রচার করার তাওফীক দান করেন, আমীন।। প্রণেতা by :-তাজমাউল সেখ !!

২ thoughts on “কুরআনের কয়েকটি বিশেষ সূরা ও আয়াতের ফজীলত

Leave a Reply

Your email address will not be published.