‘ইল্লাল্লাহ’ এর জিকির জায়েজ কি?

Spread the love

★ ‘ইল্লাল্লাহ’ এর জিকির জায়েজ কি? চরমোনাই পীর সাহেবের যুক্তি : আমাদের জবাব ও পর্যালোচনা ★

“আলহামদুলিল্লাহ্‌, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আ’লা মা’ল্লা নাবিয়্যা বা’আদা”

আমাদের দেশের হক্কানি পীর নামে খ্যাত এক পীর সাহেব (*ইসলামে পীর নামক কোন উসূল নেই) তাদের বিশেষ জিকির ‘ইল্লাল্লাহ’কে জায়েজ করার জন্য যারপরনাই চেষ্ঠা করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি কুর’আনের আয়াতের ‘তাবীল’ করতেও দ্বিধাবোধ করেননি। যা মূলতঃ ইহুদীদের স্বভাব। এছাড়াও তিনি হক্বপন্থী উলামায়ে কেরামগণকে ‘জাহেল’ বলেও আখ্যায়িত করেছেন বৈকি। যা উনার মূর্খতারই নিদর্শন বলে আমরা মনে করি। আসলে কে জাহেল(?) তা আজ জাতির সামনে উন্মোচন করব ইনশাআল্লাহ।

এ বিষয়ে আলোচনার শুরুতেই আপনাদের সামনে মহান আল্লাহর বাণী ও রাসূলে করীম সাঃ এর হাদীস হতে কিছু উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করছি। যাতে করে আপনারা বিষয়টি সহজেই উপলব্ধি করতে ও বুঝতে পারেন।

আল্লাহ তাআলা বলেন : অতঃপর সত্যের পর ভ্রষ্টতা ছাড়া কী থাকে? (সূরা ইউনুস আয়াত : ৩২)
★ আয়াত থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:
→ এক. এ আয়াতে হক তথা সত্য বলতে দীনে ইসলামকে বুঝনো হয়েছে।
→ দুই. ইসলাম পূর্ণতা লাভ করার পর ইসলামের নামে দীনের মধ্যে যা কিছু সংযোজিত, আবিস্কৃত ও প্রচলিত হবে সব কিছুই ভ্রান্ত বলে প্রত্যাখ্যাত হবে। আর তা বিদআত বলে গণ্য হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন : আমি এ কিতাবে কোন কিছু বাদ রাখিনি। (সূরা আনআম, আয়াত : ৩৮)
★ আয়াত থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:
→ এক. আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারীমে সব কিছু যখন বলে দিয়েছেন তখন ধর্মে নতুন কোন বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন করার প্রয়োজন নেই। যে কোন ধরনের সংযোজন ও বিয়োজনই বিদআত বলে গণ্য হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন : অতঃপর কোন বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ কর তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে প্রত্যার্পণ করাও। (সূরা নিসা, আয়াত : ৫৯)
★ আয়াত থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:
→ এক. যখন কোন বিষয়ে মত বিরোধ সৃষ্টি হবে তখন তার সমাধান আল্লাহ তাআলার কিতাব কুরআনুল কারীম ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীসে খুঁজতে হবে।
→ দুই. আল্লাহর বিধানে সমাধান না খুঁজে নিজেদের পক্ষ থেকে যুক্তি দিয়ে কোন বিষয় সংযোজন ও বিয়োজন করা যাবে না। কুরআন-সুন্নাহর মূল ধারার বাইরে কোন ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যাবে না।

আল্লাহ তাআলা বলেন : আর এটি তো আমার সোজা পথ। সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ করো না, তাহলে তা তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেবে। (সূরা আনআম, আয়াত : ১৫৩)
★ আয়াত থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল:
→ এক. আয়াতটি সূরা আনআমে বর্ণিত আল্লাহ তাআলার দশটি নির্দেশের একটি।
→ দুই. আল্লাহ তাআলা যা কিছু করতে বলেছেন। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু প্রমাণিত, সেটা হল সঠিক পথ। আর যা কিছু প্রমাণিত নয় তা অনুসরণ করা যাবে না। কারণ তা বক্র পথ। সে পথে আছে বিভ্রান্তি।
→ তিন. সত্য, সঠিক ও সরল পথ একটিই। আর তা হল ইসলাম। ইসলাম বাদে আছে আরও অনেক পথ। কিন্তু সেগুলো সত্য, সঠিক ও সরল নয়। সেগুলো বিদআত।

আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণের দাবী হল, সকল প্রকার বিদআত পরিহার করা। বিদআত থেকে দূরে থাকা। কারণ, তিনি বিদআতে লিপ্ত হতে নিষেধ করেছেন।

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের এ বিষয়ে (ধর্মীয় বিষয়ে) এমন কিছু সৃষ্টি করবে যা এর থেকে (প্রমাণিত) নয়, তা প্রত্যাখ্যাত। (বুখারী ও মুসলিম)
মুসলিমের একটি বর্ণনায় এসেছে : যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ করবে যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত।
★ হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :
→ এক. বিদআত ইসলামে নিষিদ্ধ। ইহুদী ও খৃষ্টধর্মসহ অন্যান্য আসমানী ধর্মগুলো বিদআতের কারণেই নি:শেষ হয়ে গেছে। ধর্মে নতুন বিষয় প্রচলন করার কারণে এ সব ধর্মের মূল কাঠামো আর অবশিষ্ট থাকেনি।
→ দুই. আলোচ্য হাদীসে ‘আমাদের এ বিষয়ের মধ্যে’ বাক্য দ্বারা ইসলামের ধর্মীয় বিষয় বুঝানো হয়েছে। ইসলামের ধর্মীয় আচার-আচরণে কোন নতুন বিষয় সংযোজন, প্রচলন, আবিস্কার করা যাবে না। অতএব জাগতিক ও পার্থিব বিষয়ে নতুন আবিস্কার, উদ্ভাবন
বা নতুন কিছুর প্রচলন নিষিদ্ধ ও প্রত্যাখ্যাত নয়।
→ তিন. ধর্মে নতুন বিষয় প্রচলন করা, আবিস্কার করা যেমন অন্যায়, তেমনি এর অনুসরণ করে তা পালন করাও অন্যায়।

জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন তাঁর চক্ষুদ্বয় লাল হয়ে যেত। কন্ঠস্বর উচ্চ হয়ে যেত। রাগত ভাব প্রচন্ডভাবে প্রকাশ পেত। মনে হত তিনি কোন সৈন্যবাহিনীকে সতর্ক করছেন যে, সকালে বা বিকালেই শত্রু বাহিনী এসে পড়বে। তিনি আরো বলতেন, আমি আর কেয়ামত এমন নিকটবর্তী, এ কথা বলে মধ্যমা ও তর্জনী আঙ্গুল দুটো একত্র করতেন। তিনি আরো বলেনঃ জেনে রাখ! সবচেয়ে ভাল কথা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। আর সর্বোত্তম আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। আর ধর্মের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ হচ্ছে ধর্মে নতুন সৃষ্টি। (এটা বিদআত) আর সব বিদআতই পথভ্রষ্টতা। তারপর তিনি বলেনঃ আমি প্রত্যেক মুমিনের নিকট তার প্রাণের চেয়ে আপন। যে ব্যক্তি কোন সম্পদ রেখে মারা যায়, তা তার পরিবারের জন্য। আর যে ব্যক্তি কোন ঋণ অথবা অসহায় সন্তান রেখে মারা যায়, তাহলে তাদের দায়িত্ব আমার উপরই।
(মুসলিম)
★ হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :
→ এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খুতবা ও ভাষণ দানের পদ্ধতি জানা গেল। তিনি উচ্চ কন্ঠে, একজন বীর সেনাপতির মত ভাষণ দিতেন। আর এভাবে খুতবা প্রদান সুন্নত, তাতে সন্দেহ নেই।
→ দুই. কেয়ামত আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন খুবই নিকটবর্তী। মানে এর মধ্যবর্তী সময়ে আর কোন নবী বা রাসূলের আগমন ঘটবে না।
→ তিন. খুতবা বা ভাষণে হাত দিয়ে ইশারা- ইঙ্গিত করা সুন্নত।
→ চার. সর্বোত্তম কথা ও সর্বোত্তম আদর্শ সম্পর্কে জানতে পারলাম। একইভাবে সবচেয়ে খারাপ বিষয় সম্পর্কেও জানতে পারলাম। আর তা হল বিদআত। কারণ, সকল বিদআতই মানুষকে পথভ্রষ্ট করে। যেমন খৃষ্ট ধর্মে বিদআত খৃষ্টানদেরকে পথভ্রষ্ট করে পৌত্তলিকতায় লিপ্ত করেছে।
→ পাঁচ. প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তির কাছে তার প্রাণ যেমন আপন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চেয়েও আপন।
→ ছয়. তিনি এই খুতবাতে ইসলামী রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বর্ণনা করলেন। তা হল, কোন ব্যক্তি ঋণ রেখে মারা গেলে তা আদায় করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এমনিভাবে অসহায় সন্তান রেখে মারা গেলে তার
লালন-পালনের দায়িত্বও পালন করবে রাষ্ট্র। কিন্তু যদি কোন সম্পদ রেখে মারা যায় তা পাবে তার পরিবারের লোকজন। রাষ্ট্র বা সরকার তা গ্রহণ করতে পারবেনা।
→ সাত. জুমার খুতবায় লোকদেরকে বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি সুন্নাত।

আবু নাজীহ ইরবাজ ইবনে সারিয়াহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে এমন এক বাগ্মীতাপূর্ণ ভাষায় ওয়াজ করলেন, তাতে আমাদের হৃদয় সন্ত্রস্ত হয়ে গেল আর চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। আমরা বললাম, ইয়ারাসূলাল্লাহ! এটা যেন আপনার বিদায়ী উপদেশ। আপনি আমাদের আরো উপদেশ দিন। তিনি বললেন: আমি আল্লাহর ব্যাপারে তাকওয়া অবলম্বনের জন্য তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি। আরো উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা তোমাদের নেতার অনুসরণ ও আনুগত্য করবে। যদি হাবশী গোলাম তোমাদের আমীর নির্বাচিত হয়, তবুও। আর তোমাদের মধ্যে যে জীবিত থাকবে সে অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। তখন তোমাদের কর্তব্য হবে, আমার সুন্নাত আঁকড়ে ধরা ও সৎপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে
রাশেদীনের আদর্শ অনুসরণ করা। এ সুন্নাত ও আদর্শকে খুব মজবুতভাবে ধারণ করবে। আর (ধর্মের মধ্যে) সকল প্রকার নবসৃষ্ট বিষয় থেকে দূরে থাকবে। জেনে রাখো, প্রত্যেকটি বিদআতই পথভ্রষ্টতা। (আবু দাউদ, তিরমিজি)
★ হাদীস থেকে শিক্ষা ও মাসায়েল :
→ এক. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ভাষায় ও ভঙ্গিতে ওয়াজ করতেন যাতে শ্রোতাদের চোখে পানি এসে যেত।
→ দুই. সাহাবায়ে কেরাম সর্বদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওয়াজ-নসীহত, খুতবা-বক্তৃতা শোনার জন্য উদগ্রীব থাকতেন। এতে তারা কখনো ক্লান্তি বোধ করতেন না।
→ তিন. তাকওয়া বা সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ ভীতির নীতি অনুসরণ করার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা উম্মতকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রতিটি ভাষণ ও খুতবাতে তিনি তাকওয়া অবলম্বন করার উপদেশ দিতেন।
→ চার. শাসকদের আনুগত্য করা ইসলামে অপরিহার্য। তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারন করা, বিদ্রোহ করা, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া, তাদের আনুগত্য থেকে বের হওয়া ইত্যাদি গুরুতর পাপ। তবে তাদের সংশোধনের জন্য কাজ করা, আনুগত্যের মধ্যে থেকে সংশোধনের উদ্দেশ্য নিয়ে তাদের অন্যায়গুলোর সমালোচনা করা দোষের কিছু নয়।
→ পাঁচ. শাসক যদি অযোগ্য, অপদার্থ হয় তবুও তার আনুগত্য থেকে বের হয়ে যাওয়া যাবেনা। কারণ মুসলিম অথারিটি ইসলামের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি মুসলমানদের নেতৃত্ব দেয়ার মত অথারিটি না থাকে তাহলে ইসলামের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে।প্রত্যেকে যার যার খুশী মত ইসলাম অনুসরণ করবে। ফলে ইসলামের একটি অভিন্ন রূপ কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
→ ছয়. সর্বক্ষেত্রে একজন মুসলিম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করবে। তারপর খোলাফায়ে রাশেদীন -আবু বকর রা. উমার রা. উসমান রা. ও আলী রা.- এর আদর্শ অনুসরণ করবে। আর যখন কোন বিষয়ে মতভেদ দেখা দিবে তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ আরো জরুরী হয়ে পড়ে। আর সুন্নাহ অনুসরণ করার মাধ্যমে ইখতেলাফ দূর হয়ে উম্মতের মধ্যে ঐক্য কায়েম হতে পারে। তাই কুরআন ও সুন্নাহ হল ইসলামী ঐক্যের মূলভিত্তি। আর বিদআত হল উম্মতকে বিভক্ত করার একটি বড় মাধ্যম।
→ সাত. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার খোলাফায়ে রাশেদীনের আদর্শের বিপরীত যা কিছু ধর্ম হিসাবে চালু হবে তার নাম বিদআত। বিদআত হল সুন্নাহর বিপরীত। বিদআত ইসলামে একটি মারাত্মক অপরাধ।
→ আট. এ হাদীসে বিদআত থেকে দূরে থাকার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলকে সতর্ক করেছেন। বিদআত হল, ধর্মের নামে ধর্মের মধ্যে নতুন আবিস্কৃত বিষয়। যা আল্লাহ বলেননি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ দ্বারা যা প্রমাণিত নয়, সাহাবায়ে কেরামের কেউ যা করেননি তা দীনি বা সওয়াবের কাজ বলে আমল করার নাম হল বিদআত। বিদআত যেমন কর্মে হয় তেমনি আকীদা- বিশ্বাসেও হয়ে থাকে।
→ নয়. ‘ধর্মের জন্য নতুন বিষয়ের প্রচলন’ আর ‘ধর্মের মধ্যে নতুন বিষয়ের প্রচলন’ এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রথমটি বিদআত নয়। দ্বিতীয়টি বিদআত। প্রথমটি উদাহরণ হিসাবে আজকের যুগের মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আজান ও নামাজে মাইক ব্যবহার, ইসলামের দাওয়াতে টিভি, ইন্টারনেট ইত্যাদির ব্যবহার পেশ করা যেতে পারে। এগুলো সব ধর্মের জন্য প্রচলন করা হয়েছে। আর দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হিসাবে ইল্লাল্লাহ জিকির, মীলাদুন্নবী উদযাপন, শবে বরাত পালন, ওরস অনুষ্ঠান ইত্যাদি পেশ করা যেতে পারে। এগুলো হল ধর্মের মধ্যে ইবাদতের নামে নতুন আবিস্কার।

এবার মুল আলোচনায় আসি। এলেমের দাবীদার এই আলেম সাহেবকে (মুফতি ফয়জুল করীম) আলীমুল লিছান মনেহয়েছে।রাসূল সাঃ বলেন, শেষ জামানায় বিশেষ বিশেষ পদবী ও নামধারী এমন সব আলীমুল্লিসান আসবে যার আসলে মুনাফিক কিন্তু জবানে এমন এমন কথা বলবে মনে হবে যেন খুব জানে। অথচ তারা মুনাফেক। তিনি বলেন,

أخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي مُنَافِقٌ عَلِيمُ اللِّسَانِ يُجَادِلُ بِالْقُرْآن
ِ আমার উম্মতে জন্যে আলীমুল্লিসানই সব চেয়ে বেশী ভয়ানক।তিনি (পীর সাহেব) إلا الله কে জায়েজ করার জন্যে যে সব দলীল ও যুক্তি দিয়েছেন তা হলঃ

→ ১) সুরা আলআসরের إلا الذين آمنوا وعملوا الصالحات । বলেছেন এতে নামাজ সহীহ হলে إلا الله ও সহীহ হবে। এমন কথা কি কথার জাওয়াব তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই খণ্ড আয়াতের অর্থ ‘হ্যাঁ, যারা ইমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে’- এ খণ্ড বাক্য এর আগেরবাক্যের অংশ হল إن الإنسان لفي خسر । পুরা বাক্য হল إن الإنسان لفي خسر إلا الذين آمنوا । সকল মানুষই ক্ষতি গ্রস্থ তবে হ্যাঁ, যারা ইমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে। এখানে إلا الله জায়েজ করার কোন দলীন নেই।

→ ২) সুরা আল ইমরানে وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ । এমন আয়াত শুদ্ধ হলে إلا الله ও শুদ্ধ।আমরা বলবো, এটা একটি পূর্ণ আয়াতের অংশ মাত্র। আর এই আয়াতে মুস্তাস্নার মুস্তাসনা মিনহু হল وَمَنْ । সুতারাং এই আয়াত দিয়ে যুক্তি দেওয়ার কোনই মুল্য নেই।

→ ৩) সুরা বাকারার শুরুতে ১ম আয়াত الـــم জায়েজ হলে إلا الله ও জায়েজ। কেননা রাসুল বলেছেন যে কোরআনের একটি হরফ পড়বে সে ১০ টি নেকী পাবে। সুতারাং আলিফ, লা্‌ম, মীম পড়লে যদি নেকি হয় তাহলে إلا الله পরলেও নেকী হবে। আমরা বলবো তা গাজাখুরীকথা হল। الـــم একটি পূর্ণ বাক্য। এখানে এস্তেসনা ও মুস্তাসনা বলে কিছু নেই।

→ ৪) কাউকে জিজ্ঞাস করা হল “মাথায় কি- টুপি ছাড়া” এটা যেমন ঠিক তেমনি إلا الله মানে আল্লাহ ছাড়া বলাও ঠিক। আমরা বলবো, আপনার মাথায় শয়তান ভর করেছে। কিসের সাথে কি নিয়ে আসেন? এমন কোন বাক্য আমরা কারো মুখে শুনিনি। হতে পারে কোন পাগল সমাজের কথোপকথনের ধারা। কিন্তু ভাষায় এর কোন স্থান নেই।

→ ৫) বাচ্চায় বল্লো “ তোমাকে ছাড়া- তোমাকে ছাড়া”- মানে মা তোমাকে ছাড়া যাবনা। এমন বললে যেমন আমরা বুঝি ঠীক তেমনি إلا الله বল্লেও বুঝা যায়। বলবো, শিক্ষিত হয়ে থাকলে শিক্ষিত লোকের মতকথা বলুন। মা যদি বলে থাকে ‘ মামার বাড়ি যা’ তাহলে শিশু যদি বলে “তোমাকে ছাড়া”, তাহলে তাঁর বাক্য মায়ের বাক্যেরই পরিপুরক। এটা আলাদা কোন বাক্য নয়। আর যদি শিশু বিনা কারনে, আগে কিছু বলা ছাড়াই ঐ রকম বলে তাহলে মা বলবে, “তোকে কি ভুতে ধরেছে”?

→ ৬) যারা জীবন ভর আরব দেশে থেকেছেন তাঁদের কেউ শুনেন নি যে কেউ মুস্তাসনা মিনহু না বলে মুস্তাসনা দিয়ে কথা বলেছে। এই কালেমা যে আয়াতে এসেছে সেখানে আল্লাহ মুসতাস না ও মুস্তাস্না মিনহু মিলিয়ে বলেছেন এই ভাবেঃفَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ- محمد/19জেনে নাও, আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই-( মুহাম্মাদ/ ১৯)। তিনি খণ্ড করে বলেন নি। সুতারাং এই বাক্য ভেঙ্গে বলা যাবেনা। ভাংলেই অর্থ বিকৃত হয়ে যাবে। বরং অর্থ হবে ‘আল্লাহ ছাড়া- আল্লাহ ছাড়া’। শুধু পাগলা ও জাহেল সুফি ছাড়া এমন কোন বাক্য কোন আরব ভুলেও বলবেনা।

তাছাড়া ‘ইল্লা’ যদি ‘গাইর’ অর্থে হয় তাহলে ইল্লাল্লাহ অর্থ গাইরুল্লাহ। এটা গাইরুল্লাহ’র জিকির হয়ে গেলো না? আর যদি ‘ইল্লা’ ইস্তিসনা’র জন্য হয় তবে মুস্তাসনা মিনহু’র উল্লেখ ছাড়া এর অর্থ অসম্পূর্ণই থেকে যায়। আল্লাহর রসুলের তালীমে কোথাও আপনি এরকম অসম্পূর্ণ অর্থবোধক কোন জিকিরের উল্লেখ পাবেন না। তাই লা ইলাহা ইল্লাহা’র জিকিরই করা উচিত।

এছাড়াও যিকর শব্দের বাংলা আভিধানিক অর্থ হচ্ছে, স্মরণ। আল্লাহর স্মরণে যে সব শব্দ বা বাক্য মুখে উচ্চারণ করে বলতে হয়, সাধারণতঃ শরীয়ার পরিভাষায় তাহাই যিক্র। অবশ্য আন্তরিক স্মরণকেও যিকির বলা যায়। আল্লাহ বলেনঃ (এবং তোমার প্রতিপালককে অধিক স্মরণ করবে এবং সকালে ও সন্ধায় তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করবে।) [আল ইমরান/৪১]

★ সর্ব্বোত্তম যিক্রঃ জ্ঞানীগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সব চেয়ে উত্তম যিকির হচ্ছে, কুরআনুল কারীম। ইমাম নবভী বলেনঃ ‘জেনে রাখো, কুরআনের তিলাওয়াত সর্ব শ্রেষ্ঠ যিকর আর তা হচ্ছে, চিন্তা-ভাবনার সাথে তিলাওয়াত করা। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে প্রমাণিত যিকর সমূহ(দুআই মাসূরাহ)। আর তা অনেক তন্মধ্যে উত্তম হচ্ছে, [সুব্হানাল্লাহ, ওয়াল্ হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্ বার।]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় বাক্য চারটি, [সুব্হানাল্লাহ, ওয়াল্হামদু লিল্লাহ্ ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আক্বার। এর মধ্যে যার দ্বারায় শুরু কর না কেন কোন অসুবিধা নেই। [মুসলিম]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ ‘সব্বোর্ত্তম যিকর হচ্ছে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। [ইমাম তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন এবং ইবনু হিব্বান ও হাকেম সহীহ বলেছেন।]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ ‘আমি ও আমার পূর্বের নবীগণ সব্বোর্ত্তম যা বলেছি, [তা হল,] ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকা লাহু’। [মালেক তাঁর মুআত্তায় বর্ণনা করেন এবং তাববারানীও বর্ণনা করেন। সনদ হাসান]

উপরোক্ত হাদীসগুলির আলোকে একথা প্রমাণিত যে, শুধু “ইল্লাল্লাহ’কে শব্দের মাধ্যমে যিকির করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে প্রমাণিত নয় আর না তাঁর কোন সাহাবা হতে এটা প্রমাণিত।

→ শাইখুল ইসলাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেনঃ ‘শুধু (আল্লাহর) নাম তা গোপনে হোক কিংবা প্রকাশ্যে তা একটি পূর্ণ কথা নয় আর না একটি পূর্ণ বাক্য। আর না এর সম্পর্ক কুফর বা ঈমানের সাথে আছে, না আদেশ কিংবা নিষেধের সাথে সম্পর্কিত। আর না সালাফ (পূর্বসুরী) থেকে প্রমাণিত আর না নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বৈধ করেছেন। [মাজমুউল ফাতাওয়া/১০/৫৫৬]

সম্মানিত পাঠক, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে দুয়া ও জিকিরের ব্যাপারে যতগুলো হাদীস পাওয়া যায় সবগুলোই পূর্ণাঙ্গ বাক্য। যেমন, সুবাহান আল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহ ইত্যাদি। কতবার পড়তে হবে সংখ্যা সহ হাদীসগুলোতে উল্লেখ আছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
ﺃﻓﻀﻞ ﻣﺎ ﻗﻠﺖ ﺃﻧﺎ ﻭﺍﻟﻨﺒﻴﻮﻥ ﻗﺒﻠﻲ : ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺣﺪﻩ ﻻ ﺷﺮﻳﻚ ﻟﻪ ﻟﻪ
ﺍﻟﻤﻠﻚ ﻭﻟﻪ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﻭﻫﻮ ﻋﻠﻰ ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻗﺪﻳﺮ
“আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের বলা শ্রেষ্ঠ জিকির হল, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।”

তিনি আরও বলেন:
ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﺬﻛﺮ ﻻ ﺇﻟﻪ ﺇﻻ ﺍﻟﻠﻪ

“শ্রেষ্ঠ যিকির হল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’,।

তিনি আরও বলেন:
ﺃﻓﻀﻞ ﺍﻟﺪﻋﺎﺀ ﺍﻟﺤﻤﺪ ﺍﻟﻠﻪ
“শ্রেষ্ঠ দুয়া হল, আলহামদুলিল্লাহ।”

এভাবে বহু হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে জিকিরের শব্দাবলী শিক্ষা প্রদান করেছেন। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার একটি মাত্র নাম নিয়ে একক শব্দে, বা একটি পূর্ণ বাক্যের কিছু অংশ কাটছাঁট করে (যেমন, আল্লাহু আল্লাহু…ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ বা আর রাহমানু আর রাহমানু… ইত্যাদি) জিকির করার ব্যাপারে একটি হাদীস পাওয়া যায় না। সাহাবী তাবেঈদের নিকট থেকেও এমন নজির খুঁজে পাওয়া যায় না। একক শব্দে জিকির করা যদি শরীয়ত সম্মত হত তবে অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের জন্য উল্লেখ করতেন। সাহাবী গণও তা পালন করতে পিছুপা হতেন না। ভ্রান্ত আকীদার পীর-ফকীর ও সূফীগণ এভাবে জিকির করে থাকেন। তাদের কেউ কেউ তো আল্লাহ শব্দ বাদ দিয়ে কেবল হু হু বলে জিকির করে থাকে। এভাবে তারা দীনের মধ্যে বিদআত আবিষ্কার করেছে। আর প্রতিটি বিদআতই গোমরাহী।

সুতারাং সুস্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হল ‘ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ জিকির করা কোন ভাবেই জায়েয নয়।

★ এবার পীর সাহেবের নিকট আমাদের কিছু প্রশ্ন:
^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^^
→ ১. রাসূলূল্লাহ সাঃ কি ‘ইল্লাল্লাহ, ইল্লাল্লাহ’ জিকির করেছেন বা করতে অনুমতি দিয়েছেন অথবা সাহাবায়ে কেরাম করেছেন আর তিনি মৌন সম্মতি দিয়েছেন?
→ ২. খোলাফায়ে রাশেদীন সহ কোন সাহাবায়ে কেরাম কি এ ‘ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ’ জিকির করেছেন বা করতে অনুমতি দিয়েছেন?
→ ৩. কোন তাবেঈ ও তাবে তাবেঈন কি এ জিকির করেছেন?
→ ৪. সম্মানিত চার ইমামসহ কোন আইয়াম্মায়ে মুজতাহিদীন কি এ জিকির করেছেন?
→ ৫. আচ্ছা, আপনি তো হানাফি!(?) তো ইমাম আবূ হানিফা রহঃ কি এ জিকির করেছেন বা করতে অনুমতি দিয়েছেন?
→ ৬. কোন ফিকাহর কিতাবে কি এ জিকির করার কথা উল্লেখ আছে? থাকলে সনদসহ দলীল পেশ করুন।
→ ৭. ‘ইল্লাল্লাহ ইল্লাল্লাহ’ জিকির করতে করতে বাঁশে উঠার পদ্ধতি কি রাসূল সাঃ দিয়ে গেছেন?

যদি সত্যবাদী হোন, তাহলে উপযুক্ত দলীল পেশ করুন!!!

★ বিঃ দ্রঃ- পীর সাহেব! আপনি যেন আবার আমাদের আরবী গ্রামার শিখাতে যাবেন না। কেননা, এইসব ত্যানা প্যাঁচানো যুক্তি আপনার মুরীদের খোঁড়াক হলেও আমাদের কাছে তার পাঁচ পয়সার মূল্য নেই।

★ পরিশেষে পীর সাহেবের উদ্দেশ্যে দুটি কথা :

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺟَﺎٓﺀَﺗۡﻬُﻢۡ ﺭُﺳُﻠُﻬُﻢ ﺑِﭑﻟۡﺒَﻴِّﻨَٰﺖِ ﻓَﺮِﺣُﻮﺍْ ﺑِﻤَﺎ ﻋِﻨﺪَﻫُﻢ ﻣِّﻦَ ﭐﻟۡﻌِﻠۡﻢ
“অতঃপর যখন তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলিল প্রমাণ নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল তাদের কাছে, তখন তারা নিজেদের (পৈতৃক) বিদ্যা-বুদ্ধি নিয়েই উৎফুল্ল হয়ে রইল।” (সুরা গাফের: ৮৩)।

তাই আসুন, বাপ দাদার দোহাই না দিয়ে নিজের গোঁড়ামিকে আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে রাসূল সাঃ এর দেখানো সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে। যে পথ চলে গেছে জান্নাতে।

আল্লাহ্‌ সুবাহানাহু তা’আলা সকলকে বুঝার তাওফিক দান করুন এবং পীর সাহেবের শুভ বুদ্ধির উদয় হউক। আমীন।

 

আসসালামু আলাইকুম ইসলামিক দলিল ভিত্তিক পোস্ট পেতে আমাদের এই মিডিয়ার সাথে থাকবেন সব সময়। এতে করে সঠিক টা জানতে পারবেন ও সঠিক আমল করতে পারবেন।আমাদের পেজ লিংক দেয়া আছে ওয়েবসাইট এ সেখানে চাইলে যেকোন প্রশ্ন করতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ আমাদের এডমিন পেনেল আপনার উত্তর দলিল সহকারে দেয়ার চেস্টা করবেন। জাজাকাল্লাহু খাইরান

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published.